ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ব্রিটেনে ভিসা স্পনসরশিপ পেল বিতর্কিত কিছু বইয়ের দোকান

ব্রিটেনে ভিসা স্পনসরশিপ পেল বিতর্কিত কিছু বইয়ের দোকান

লন্ডন, ২৮ জুলাই: যুক্তরাজ্যে ইসলামি বই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি বইয়ের দোকানকে বিদেশ থেকে ‘দক্ষ কর্মী’ (Skilled Worker) আনার জন্য ভিসা স্পনসরশিপের অনুমতি দেওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছুতে ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদ-সম্পর্কিত বই বিক্রি হলেও তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (Home Office) অনুমোদন পেয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়েকটি ইসলামি বইয়ের দোকান দীর্ঘদিন ধরে এমন কিছু বই বিক্রি করছে, যেগুলো ঘৃণামূলক বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বা চরমপন্থী মতাদর্শকে উৎসাহিত করে বলে সমালোচনার মুখে রয়েছে। তবুও তারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য সরকার অনুমোদিত স্পনসর হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে ভিসা স্পনসরশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, বৈধ ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হয়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রিত বই বা মতাদর্শগত কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থাকলে, সেই বিষয়টিও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল কি না—তা নিয়ে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার যদি একদিকে উগ্রবাদ ও ঘৃণামূলক বক্তব্য দমনের কথা বলে, অন্যদিকে একই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ দেয়, তাহলে তা নীতিগত অসঙ্গতির জন্ম দেয়। তারা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভিসা স্পনসরশিপের অনুমোদন পাওয়া মানেই কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রিত সব বই বা মতাদর্শকে সরকার সমর্থন করছে—এমনটি নয়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার স্পনসর লাইসেন্স পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের একাংশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, স্পনসর লাইসেন্স দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম কতটা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে কী ধরনের অতিরিক্ত নজরদারি করা হবে।

ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং উগ্রবাদবিরোধী অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।