বড় শিক্ষা সংস্কারে যাচ্ছে ইংল্যান্ড
স্থানীয় চাকরির বাজারের সঙ্গে মিলিয়ে বদলাবে স্কুলের পাঠ্যক্রম
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৮ জুলাই:
ইংল্যান্ডের স্কুলশিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এন্ডি বারহাম। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হবে। সরকারের আশা, এতে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মর্যাদা বাড়বে এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
সরকার জানিয়েছে, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানীয় মেয়র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী সংগঠন একসঙ্গে কাজ করে নিজ নিজ এলাকার অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের কোর্স তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের এমন ধারণা দেওয়া হয়েছে যে সফল হতে হলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের পথই বেছে নিতে হবে। এতে কারিগরি শিক্ষা নিতে আগ্রহী অনেক তরুণ অবহেলিত হয়েছে। তিনি বলেন, "এখন সময় এসেছে নিরাপত্তা হেলমেট পরা দক্ষ কর্মীর মূল্যায়নও যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপের সমান হয়।"
নতুন নীতির আওতায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের পাশাপাশি স্কুল মূল্যায়নকারী সংস্থা অফস্টেডকেও এসব যোগ্যতার গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, এই উদ্যোগের আরেকটি লক্ষ্য হলো শিক্ষা, চাকরি কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা (NEET) তরুণদের সংখ্যা কমানো। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ তরুণ এই অবস্থায় রয়েছে। পরিবর্তিত চাকরির বাজার, বৈষম্য, স্বাস্থ্য সমস্যা এবং কর্মমুখী শিক্ষার ঘাটতিকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই শিক্ষা সংস্কারের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে বার্নহামের চালু করা এমব্যাক (MBacc) কর্মসূচির মাধ্যমে। সেখানে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রকৌশল, উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, আর্থিক সেবা, সবুজ অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পরিবহন খাতভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
সরকার মনে করছে, স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুক্ত করা গেলে একদিকে দক্ষ জনবল তৈরি হবে, অন্যদিকে তরুণদের বেকারত্ব কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, নতুন মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হলেও এটি ইংল্যান্ডের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
পূর্ববর্তী সংবাদ
পরবর্তী সংবাদ