ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
রাষ্ট্রীয় হাউজিং ডেভেলপার গঠনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ জুন:
যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি হাউজিং ডেভেলপার (State-Owned Housing Developer) গঠনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় থাকা এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি অর্থায়নে জমি কিনে নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে, যদিও নির্মাণকাজ করবে বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো।
ফাঁস হওয়া নীতিগত প্রস্তাবের তথ্য অনুযায়ী, আবাসনমন্ত্রী স্টিভ রিড এমন একটি স্বাধীন সরকারি সংস্থা গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করছেন, যা বর্তমানের সরকারি আবাসন সংস্থা Homes England-এর বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করে নতুন প্রকল্প পরিচালনা করবে। বেসরকারি ডেভেলপারদের তুলনায় কম সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকায় সংস্থাটি তুলনামূলক কম ব্যয়ে আবাসন নির্মাণ করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবার সরকার ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্টের মেয়াদে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১২ মাসে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বাড়ির, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় গড় সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদের ঋণ এবং বৈশ্বিক সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চাপ আবাসন নির্মাণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন সংস্থাগুলোও আর্থিক সংকটে থাকায় স্বল্পমূল্যের ঘর নির্মাণে প্রত্যাশিত গতি আসছে না।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রীয় ডেভেলপার প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত এলাকায় কাজ শুরু করবে। সংস্থাটি বাজারমূল্যের বাড়ির পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনও নির্মাণ করবে। তবে এটি এমন পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে না, যাতে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সময়ে নতুন বড় নীতিগত ঘোষণা স্থগিত রাখার নির্দেশ থাকায় এখনই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আবারও সামনে আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
আবাসন বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় নতুন আবাসন নির্মাণের সূচনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন বাড়ি নির্মাণে আরও কার্যকর উপায় খুঁজে যাচ্ছে।