সিনেমা, জাদুঘর আর সংস্কৃতিচর্চায় কমতে পারে শরীরের বয়স!
জীবনধারা ডেস্ক, ২৯ জুলাই: নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বয়স্কদের শরীর থাকে তুলনামূলক তরুণ—নতুন গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
সিনেমা দেখা, জাদুঘর ঘুরে দেখা কিংবা মঞ্চনাটক উপভোগ করার মতো সাংস্কৃতিক অভ্যাস শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরের বয়স বাড়ার গতিও ধীর করতে পারে। যুক্তরাজ্যের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় কম হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, একই বয়সের দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের প্রভাব এক রকম হয় না। কারও শরীর তুলনামূলক দ্রুত বুড়িয়ে যেতে পারে, আবার কারও শরীর দীর্ঘদিন কর্মক্ষম থাকতে পারে। এই শারীরিক বয়স নির্ধারণে রক্তচাপ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সূচক বিবেচনা করা হয়।
সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্তদের শরীর তিন বছর তরুণ
‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় প্রায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ছিলেন পুরুষ। গবেষণার অংশ হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হাজারো তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়—তারা কত ঘন ঘন সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারি পরিদর্শন করেন কিংবা মঞ্চনাটক দেখেন। এসব অভ্যাসের ভিত্তিতে তাদের একটি স্কোর দেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, যারা কয়েক মাসের মধ্যে একাধিকবার এসব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় গড়ে প্রায় তিন বছর কম।
অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তারও কম সময় সিনেমা, জাদুঘর বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তাদের শরীরে বয়সের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
শুধু বিনোদন নয়, সুস্থ থাকার পথও
গবেষকদের মতে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের মানসিক চাপ কমাতে, সামাজিক যোগাযোগ বাড়াতে এবং জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে সাহায্য করে। এসব বিষয় দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণা শুধু যুক্তরাজ্যের মানুষের ওপর করা হয়েছে। অন্য দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে ফলাফল কিছুটা আলাদা হতে পারে। এছাড়া সিনেমা, জাদুঘর ও আর্ট গ্যালারি ছাড়া সংস্কৃতির আরও অনেক মাধ্যম এই গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনযাপনের জন্য সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরের বয়স শুধু ক্যালেন্ডারে নয়, জীবনযাপনের ধরনেও নির্ধারিত হয়।