তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

গুরুতর অপরাধে দোষীদের বেনিফিট বন্ধে নতুন আইন করছে ব্রিটেন

গুরুতর অপরাধে দোষীদের বেনিফিট বন্ধে নতুন আইন করছে ব্রিটেন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩০ অক্টোবর :

ব্রিটেনে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সরকারি বেনিফিট বা সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ এবং গুরুতর যৌন ও সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আদালতের নির্দেশে মানসিক হাসপাতালে আটক ব্যক্তিদের জন্য এই নতুন বিধান কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।

গত ২০ অক্টোবর ব্রিটেনের কর্ম ও পেনশনবিষয়ক বিভাগ (ডিডব্লিউপি) এ সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা সংসদে উত্থাপন করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। তবে এর জন্য সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন।

কাদের বেনিফিট বন্ধ হবে?

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের অধীনে বিশেষ আদালতের আদেশে হাসপাতালে আটক ব্যক্তিদের চার ধরনের সরকারি সুবিধা বন্ধ হবে। এগুলো হলো ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাউন্স, স্টেট পেনশন এবং পেনশন ক্রেডিট।

এই তালিকায় রয়েছে নরহত্যা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আঘাত, ধর্ষণ এবং শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন অপরাধসহ মোট ১২ ধরনের অপরাধ।

সরকারের যুক্তি, এসব ব্যক্তির হাসপাতালে থাকা, চিকিৎসা, খাবার ও আবাসনের খরচ ইতিমধ্যে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস বহন করছে। ফলে একই ব্যক্তির জীবনযাপনের খরচের জন্য আবার সরকারি বেনিফিট দেওয়াকে দ্বৈত সরকারি ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

মাসে ৮০০ পাউন্ডের বেশি বেনিফিট পাওয়ার সুযোগ

সরকারের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিশেষ আদালতের আদেশে হাসপাতালে আটক কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করলে মাসে ৮০০ পাউন্ডের বেশি ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পেতে পারেন। দীর্ঘদিন হাসপাতালে অবস্থান করলে কয়েক বছরে এই অর্থের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বর্তমানে হাসপাতালে আটক প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যক্তি এর আওতায় আসতে পারেন। ভবিষ্যতে বছরে আরও প্রায় ২০০ জনের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে বছরে কয়েক কোটি পাউন্ড সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের প্রত্যাশা করছে সরকার।

সাধারণ অপরাধী ও কারাবন্দিদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম?

ব্রিটেনে কারাগারে গেলে সাধারণত অধিকাংশ সরকারি বেনিফিট পাওয়া যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।

যেমন, কারাগারে থাকা কোনো একক ব্যক্তির সাজা ছয় মাস বা তার কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে এবং আগে থেকে ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের আবাসন ভাতা পেলে নির্দিষ্ট শর্তে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সেই সুবিধা চালু থাকতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও চলাচলসংক্রান্ত প্রতিবন্ধিতার জন্য দেওয়া পিআইপি (পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট) কারাগারে থাকলে সাধারণত ২৮ দিনের বেশি আটক থাকার পর বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থাৎ শুধু গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হলেই বেনিফিট বন্ধ হয়ে যায় না। কারাদণ্ড, আটকের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বেনিফিটের নিয়মের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

যাদের ক্ষেত্রে নতুন আইন কার্যকর হবে না

সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় সবাই পড়বেন না।

যারা কোনো অপরাধ করেননি, কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য মানসিক হাসপাতালে ভর্তি বা আটক রয়েছেন, তাঁদের বেনিফিট বন্ধ হবে না।

এ ছাড়া বিচারাধীন ব্যক্তি, জামিন না পেয়ে রিমান্ডে থাকা ব্যক্তি, বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা নেই বলে বিবেচিত ব্যক্তি এবং নতুন বিধানে উল্লেখ না থাকা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

নতুন বিধানটি ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ডের নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা কি বন্ধ হবে?

কোনো ব্যক্তি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে বা হাসপাতালে আটক হলেই তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের সব বেনিফিট বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।

স্বামী বা স্ত্রী কারাগারে গেলে অন্যজন নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ প্রযোজ্য সরকারি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, আবাসন খরচ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভাতার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ হতে পারে।

সরকারের অবস্থান

ব্রিটিশ সরকারের কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনের বক্তব্য, গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে রাষ্ট্রের অর্থে হাসপাতালে থাকা ব্যক্তিদের একই সময়ে সরকারি বেনিফিট পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারের মতে, এতে করদাতাদের অর্থের অপচয় কমবে এবং ভাতা ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে।

তবে নতুন বিধানটি এখনো সংসদের অনুমোদনসাপেক্ষ। তাই ৩০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এটিকে সম্পূর্ণ কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।