স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রতিবেদন
স্তন ক্যান্সার: সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণই বাঁচাতে পারে হাজারো প্রাণ
ভয়েস অব পিপল বিশেষ প্রতিবেদন, ৩০ অক্টোবর:
বিশ্বজুড়ে নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারগুলোর একটি স্তন ক্যান্সার। তবে স্তন ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ থেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব। অথচ সামাজিক সংকোচ, লজ্জা, অসচেতনতা, কুসংস্কার এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে অনেক নারী রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। এই বিলম্বই অনেক ক্ষেত্রে রোগকে জটিল পর্যায়ে নিয়ে যায়।
এটি শুধু নারীদের রোগ নয়; পুরুষেরাও আক্রান্ত হতে পারেন। তাই স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা কোনো একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বছর ২০২৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিপাদ্য: Every story is unique, every journey matters — প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা, প্রত্যেকের জীবনযাত্রার গল্প গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের ৩ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে আনুমানিক ২৪ লাখ নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। একই বছরে এ রোগে মারা গেছেন প্রায় ৬ লাখ ৯৪ হাজার নারী। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮৬টি দেশের মধ্যে ১৬৪টি দেশেই নারীদের সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সার ছিল স্তন ক্যান্সার।
আরও উদ্বেগের বিষয়, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে নারী হওয়া ও বয়স বাড়া ছাড়া অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির কারণ পাওয়া যায় না। অর্থাৎ পরিবারে আগে কারও এই রোগ না থাকলেও একজন নারী আক্রান্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা আইএআরসির গ্লোবোক্যান ২০২৪-এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই বছর নারীদের মধ্যে আনুমানিক ৯ হাজার ৪৮০টি নতুন স্তন ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে। নারীদের ক্যান্সারের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের পর এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যান্সার। একই হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে সব ধরনের ক্যান্সার মিলিয়ে ২০২৪ সালে নতুন রোগীর আনুমানিক সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৩।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো জাতীয় পর্যায়ের মডেলভিত্তিক অনুমান; হাসপাতাল বা জনসংখ্যাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্যান্সার নিবন্ধনের মাধ্যমে পাওয়া সরাসরি গণনা নয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধনের ঘাটতি থাকায় প্রকৃত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ চিত্র নির্ধারণ করা কঠিন।
লজ্জা ও সংকোচের কারণে চিকিৎসায় দেরি
বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণের অন্যতম বড় বাধা সামাজিক সংকোচ। অনেক নারী স্তনের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা চাকা অনুভব করলেও পরিবারের কাছে বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। কেউ বিষয়টি গোপন রাখেন, কেউ ভাবেন ব্যথা নেই যখন, তখন নিশ্চয়ই বড় কোনো সমস্যা নয়। আবার অনেকে ক্যান্সারের কথা শুনে আতঙ্কিত হয়ে চিকিৎসা এড়িয়ে যান।
চট্টগ্রামে ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৮৬৯ জন নারীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ নারী স্তন নিজে পরীক্ষা করার বিষয়ে জানতেন। মাত্র ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নারী কখনো নিজে স্তন পরীক্ষা করেছেন এবং ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ চিকিৎসকের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করিয়েছেন। শহর ও গ্রামের নারীদের মধ্যে সচেতনতার পার্থক্যও ছিল উল্লেখযোগ্য।
গবেষণাটিতে রোগের কোনো লক্ষণ না থাকা এবং নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত মনে করাকে পরীক্ষা না করানোর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবশ্য এই গবেষণার ফল পুরো বাংলাদেশের নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে না; তবে সচেতনতার ঘাটতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা বিপজ্জনক

স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ সব সময় ব্যথার মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে স্তনে কোনো ব্যথা ছাড়াই চাকা বা শক্ত অংশ তৈরি হতে পারে। তাই শরীরের স্বাভাবিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
১. স্তন বা বগলের নিচে নতুন কোনো চাকা, গুটি বা শক্ত অংশ অনুভব করা।
২. স্তনের আকার বা আকৃতিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া।
৩. স্তনের ত্বকে গর্তের মতো দেবে যাওয়া, লালচে ভাব, পুরু হয়ে যাওয়া কিংবা কমলার খোসার মতো পরিবর্তন।
৪. স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া বা এর স্বাভাবিক আকৃতিতে পরিবর্তন আসা।
৫. স্তনবৃন্ত দিয়ে অস্বাভাবিক তরল, বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল বের হওয়া।
৬. স্তন বা বগলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা কিংবা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেওয়া।
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যান্সার হয়েছে, এমন নয়। অনেক সাধারণ সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না। বিশেষ করে ব্যথাহীন গুটিও অবহেলা করা যাবে না।
পুরুষেরাও কি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন?
অনেকের ধারণা, স্তন ক্যান্সার শুধু নারীদের রোগ। এই ধারণা সঠিক নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মোট স্তন ক্যান্সারের প্রায় শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ শতাংশ পুরুষের মধ্যে দেখা যায়।
পুরুষের স্তনেও গুটি, বগলে ফোলা, স্তনবৃন্তের পরিবর্তন কিংবা অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পুরুষদের মধ্যে এ রোগ তুলনামূলক বিরল হলেও এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে যেকোনো বয়সেই এ রোগ হতে পারে। কয়েকটি বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে:
- পরিবারে মা, বোন বা নিকটাত্মীয়ের স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস।
- বংশগত জিনগত পরিবর্তন, বিশেষ করে বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২।
- অতিরিক্ত ওজন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা।
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ।
- ধূমপান ও তামাক ব্যবহার।
- কিছু ক্ষেত্রে হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা এবং অতীতে বুকে রেডিয়েশন নেওয়ার ইতিহাস।
তবে ঝুঁকির কারণ না থাকলেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তাই শুধু পারিবারিক ইতিহাস নেই বলে নিশ্চিন্ত থাকার সুযোগ নেই।
কীভাবে আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব?
স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা প্রয়োজন।
নিজের স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে জানা: নিয়মিত নিজের স্তন পর্যবেক্ষণ করলে নতুন কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন সহজে বোঝা যায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্তনের আকার, আকৃতি, ত্বক ও স্তনবৃন্তের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। হাত দিয়ে স্তন ও বগলের নিচের অংশ পরীক্ষা করাও সহায়ক। মাসে একবার এমন পর্যবেক্ষণের অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে নিজে পরীক্ষা করা চিকিৎসকের পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংয়ের বিকল্প নয়।
চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা: কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন, আলট্রাসাউন্ড, ম্যামোগ্রাম কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী বায়োপসি করাতে হতে পারে।
ম্যামোগ্রাম: স্তনের ভেতরের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। উপযুক্ত বয়স ও ঝুঁকি বিবেচনায় চিকিৎসক ম্যামোগ্রামের পরামর্শ দিতে পারেন। যুক্তরাজ্যে এনএইচএসের নিয়মিত স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কর্মসূচিতে ৫০ বছর বয়স থেকে ৭১তম জন্মদিনের আগ পর্যন্ত সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর নারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে স্ক্রিনিংয়ের আমন্ত্রণের অপেক্ষা করা উচিত নয়।
ক্যান্সার হলেই কি স্তন অপসারণ করতে হয়?
স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর অনেক নারী ভয় পেয়ে যান। বিশেষ করে স্তন অপসারণ করতে হবে—এমন আশঙ্কা তাঁদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সব রোগীর ক্ষেত্রে পুরো স্তন অপসারণের প্রয়োজন হয় না।
রোগের ধরন, বিস্তার ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি কিংবা টার্গেটেড থেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্ত টিস্যু অপসারণ করেই চিকিৎসা সম্ভব। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো স্তন অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে।
সরকারের দায়িত্ব ও সামাজিক উদ্যোগ
বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার মোকাবিলায় শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি কার্যকর ও সহজলভ্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে স্তন পরীক্ষা, ম্যামোগ্রাম, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে হবে।
সরকারি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গ্রামপর্যায়ে প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ এবং দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
একই সঙ্গে দেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন, কোন বয়সে রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে, কোথায় চিকিৎসার সুযোগ কম এবং কতজন চিকিৎসার বাইরে থাকছেন—এসব তথ্য ছাড়া কার্যকর জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ কঠিন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্তন ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা কোনো লজ্জার বিষয় নয়; বরং এটি নারীর জীবন রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জরুরি স্বাস্থ্যবিষয়।
পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরও দায়িত্ব রয়েছে। স্ত্রী, মা, বোন কিংবা মেয়ের শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে উৎসাহিত করতে হবে। রোগের কথা গোপন রাখা কিংবা সামাজিক লজ্জার ভয়ে চিকিৎসা বিলম্বিত করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সচেতনতাই হতে পারে জীবন রক্ষার প্রথম পদক্ষেপ
স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত একজন নারী শুধু একটি রোগের সঙ্গে লড়াই করেন না; তাঁকে একই সঙ্গে শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক চাপ, পারিবারিক দুশ্চিন্তা এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। এই সময়ে পরিবারের সহানুভূতি ও সহযোগিতা তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের বার্তা হলো—প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা, প্রত্যেকের জীবনযাত্রার গল্প গুরুত্বপূর্ণ। এই বার্তার তাৎপর্য হলো, আক্রান্ত ব্যক্তিকে করুণা নয়, সম্মান, সহযোগিতা ও যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, স্তনে গুটি হলেই ক্যান্সার নয়, আবার ব্যথা না থাকলেও ক্যান্সার হতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস না থাকলেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। আর ক্যান্সার শনাক্ত হলেই জীবন শেষ হয়ে যায় না।
তাই লজ্জা নয়, সচেতনতা; আতঙ্ক নয়, পরীক্ষা; অবহেলা নয়, সময়মতো চিকিৎসা—এই হোক স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক অঙ্গীকার। একটি সচেতন পরিবার, একটি দায়িত্বশীল সমাজ এবং একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা অসংখ্য নারীর জীবন রক্ষা করতে পারে।
আজকের সচেতনতা আগামী দিনের একটি জীবন বাঁচাতে পারে।