তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত, বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা
ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর:
ইসরায়েলের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবির ৪৮টি আসন পেয়েছে। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসন ১৯। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রেখে বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বিরোধী নেতারা।

৩০ অক্টোবরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আইজেনকোট ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলানের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ইয়ার গোলান আরব দল রা'আমের নেতা মনসুর আব্বাসের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেতানিয়াহুবিহীন একটি সরকার গঠন।
এ ক্ষেত্রে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) সাতটি আসনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলটির কয়েকজন নেতা বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতানিয়াহুর জোট ছাড়েনি।
তবে বিরোধীদের পথও মসৃণ নয়। ডানপন্থি নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে শাস পার্টির নেতা আরিয়ে দেরি জানিয়েছেন, লিকুদ পার্টিকে বাদ দিয়ে বিরোধী সরকারের অংশ হবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সমর্থন এবং ইউটিজের অবস্থান পরিবর্তন—এই দুই বিষয় বিরোধীদের সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের আস্থা ভোটে সব সময় ৬১ জনের সমর্থন বাধ্যতামূলক নয়; ভোটদানে বিরত থাকা বা অনুপস্থিতির কারণে কম সমর্থন নিয়েও সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ফলে নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে লিকুদ এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী পদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত নয়। বিরোধীরা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠিত হতে পারে। আর আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।