‘‘গল্পকাররা বিশ্ব শাসন করে’’

নির্ঝর এর ঝরঝরে অনুগল্প ।। ৫৪ ।। শূন্য থেকে পঁচাশি

নির্ঝর এর ঝরঝরে অনুগল্প ।। ৫৪ ।। শূন্য থেকে পঁচাশি

।। শূন্য থেকে পঁচাশি।।

উৎসর্গ

বাংলাদেশের সেই সব শিক্ষার্থীর প্রতি—

যাদের চোখে স্বপ্ন, বুকে সংগ্রাম,
আর হৃদয়ে সুন্দর ভবিষ্যতের অদম্য প্রত্যাশা।

— মাসুক, তুই কি জানিস, আমার ফলাফলটা ভুল হতে পারে?

আলী মোস্তফা মিশকাতুন নূরের প্রশ্নে মাসুক আহমেদ একটু থমকে গেল।

— হঠাৎ এ কথা বলছিস কেন? তুই তো জিপিএ-৫ পেয়েছিস। বাড়িতে মিষ্টি খাওয়ালি, আত্মীয়স্বজন অভিনন্দন জানাল। এখন আবার সন্দেহ কীসের?

— জানি না। গণিত পরীক্ষাটা ভালো হয়নি। কয়েকটা প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারিনি। অথচ ফলাফলে দেখলাম বেশ ভালো নম্বর। আমার নিজের কাছেই কেমন যেন লাগছে।

মাসুক কিছুক্ষণ বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল,

— তোর ফলাফলটা আরেকবার পরীক্ষা করা দরকার।

কথাটা বলেই সে চুপ করে গেল। কিন্তু মনের ভেতরে অন্য একটা হিসাব চলছিল। তার ধারণা, মিশকাতুন নূর জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য নয়। বন্ধুর এই সাফল্য তার কাছে কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছিল না।

কয়েক দিন পর কাউকে কিছু না জানিয়ে মাসুক বন্ধুর অজান্তে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে বসল।

সে ভেবেছিল, হয়তো দু-এক নম্বর কমবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর যা ঘটল, তা তার নিজের কাছেও অবিশ্বাস্য।

আলী মোস্তফা মিশকাতুন নূর ফেল করেছে!

যে শিক্ষার্থী কয়েক দিন আগেও জিপিএ-৫ নিয়ে আনন্দ করেছে, যার পরিবার আত্মীয়স্বজনকে মিষ্টি খাইয়েছে, সেই শিক্ষার্থী এখন ফেল!

মাসুকের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

— এটা কীভাবে সম্ভব?

মিশকাতুন নূর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেনি। পরে পুনর্নিরীক্ষণের ফল দেখে তার চোখের সামনে যেন অন্ধকার নেমে এল।

একটি প্রশ্নের উত্তরে শূন্য নম্বরকে করা হয়েছে ৮৫। আরেকটি জায়গায় ১৩ নম্বরকে বানানো হয়েছে ৮৩।

মিশকাতুন নূর বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বলল,

— তুই আমার অজান্তে আবেদন করেছিস?

মাসুক মাথা নিচু করল।

— হ্যাঁ। আমি ভেবেছিলাম তোর ফলাফল ঠিক নেই। কিন্তু এমন কিছু হবে, বুঝিনি।

— তুই আমার বন্ধু ছিলি, তাই না?

মাসুক কোনো উত্তর দিতে পারল না।

মিশকাতুন নূরের চোখে তখন শুধু নিজের ফলাফলের কষ্ট ছিল না। ছিল এক অদ্ভুত অপমানবোধ। যে পরীক্ষার খাতা তার কয়েক বছরের পরিশ্রমের সাক্ষী, সেই খাতায় এমন কী ঘটেছিল যে শূন্য হয়ে গেল ৮৫?

বাড়িতে খবর পৌঁছাতেই বাবা-মায়ের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

মা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,

— মা, তুই কি সত্যিই এত খারাপ পরীক্ষা দিয়েছিলি?

মিশকাতুন নূর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— মা, আমি জানি না। আমি যতটুকু লিখেছি, তার নম্বর তো আমার পাওয়ার কথা। কিন্তু আমার খাতায় শূন্যকে ৮৫ বানাল কে?

বাবা চুপচাপ বসে রইলেন। তাঁর মনে পড়ল, ছেলের পড়াশোনার জন্য কত টাকা খরচ করেছেন। কত স্বপ্ন দেখেছেন। ভালো ফলের আশায় কত রাত জেগে ছেলের পড়ার খোঁজ নিয়েছেন। অথচ এখন বুঝতে পারছেন, শুধু ছেলেকে পড়ালেই হয় না; যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তার মেধার মূল্যায়ন হবে, সেই ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করতে হয়।

পরদিন সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হলো। বিষয়টি সংসদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা কোনো গোপন তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না। দেশের মানুষের আলোচনায় উঠে এল একটি মৌলিক প্রশ্ন—বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আসলে কী ঘটছে?

বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিষয়টি তুলে ধরলেন।

তিনি জানালেন, চলতি বছর ১৯ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ লাখ পাস করেছে। ফল নিয়ে প্রশ্ন থাকলে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,

“আমি এবার আইনত বললাম, যাদের যাদের প্রশ্ন আছে, তারা খাতা রি-এক্সামিন করতে পারে। ওরে আল্লাহ, রে আল্লাহ! ১২ লাখ পাশ করেছে, ১৩ লাখ খাতা দেখার জন্য দরখাস্ত পড়েছে! বাকি ৬ লাখ করেনি। তা না হলে ১৯ লাখ আবার দেখতে হতো!”

এরপর পুনর্নিরীক্ষণের ফল তুলে ধরে তিনি বলেন,

“এই যে আমি ১২ লাখ খাতা চেক করলাম, তার মধ্যে ৪৫ হাজারের জিপিএ চেঞ্জ হইল, ৪৫ হাজার; নট ৪ হাজার ৫০০। এছাড়া ৫ হাজার ফেল করা শিক্ষার্থী পাশ করল, ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ এ-প্লাস পেল। কারণটা কী?”

তাঁর বক্তব্যে পরীক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও উঠে আসে। কোনো কোনো পরীক্ষক নিজেরা খাতা না দেখে অন্যদের দিয়ে দেখিয়েছেন বলে তিনি জানান। অনিয়মে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়ে বলেন,

“এক্সামিনাররা কারা কারা এই দুষ্টুমি করেছে, তাদের আমি আইনের আওতায় আনব। এখন এক্সামিনার চেঞ্জ করব, ট্রেনিং করাব, সবকিছু ঠিক করলাম।”

মিশকাতুন নূরের মতো এক শিক্ষার্থীর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ঘটনা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থী তার বন্ধুর জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ করায় বন্ধুর অজান্তে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিল। আবেদনের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন না থাকায় বন্ধুর পরিচয়ে আবেদন করা সম্ভব হয়েছিল।

ঘটনার ভয়াবহতা বোঝাতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,

“এখন রি-এক্সামিন হয়ে গেছে বন্ধুর খাতা। বন্ধুর জিপিএ... এখন দেখা গেল বন্ধু ফেল করেছে! স্যার, চিন্তা করতে পারেন? জিরোকে বানিয়েছে ৮৫, ১৩-কে বানিয়েছে ৮৩, জিপিএ-৫ মানে এ-প্লাস। তার মানে কী? ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।”

তদন্তের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন,

“এটা কে করেছেন? এটা বের করা কত কঠিন! আজ (বুধবার) মামলা করে দিলাম। এটা বের করতে হবে আমাকে।”

খবরটি পড়ার পর মিশকাতুন নূরের বাবা পাশের বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত কলেজশিক্ষক আবদুল করিম সাহেবকে ডেকে পাঠালেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। জীবনের বড় একটা সময় শ্রেণিকক্ষে কাটিয়েছেন। তাঁর কাছে শিক্ষা শুধু পাস-ফেলের হিসাব নয়, মানুষের বিবেক তৈরির একটি প্রক্রিয়া।

আবদুল করিম সাহেব খবরটি পড়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

মিশকাতুন নূরের বাবা বললেন,

— স্যার, আমরা সন্তানদের হাতে বই তুলে দিই। ভালো স্কুলে পড়াই, কোচিং করাই, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করি। কিন্তু পরীক্ষার খাতায় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে অভিভাবক হিসেবে আমাদের বিশ্বাসটা কোথায় রাখব?

শিক্ষক বললেন,

— সমস্যা শুধু একটি খাতায় নয়। সমস্যা আমাদের পুরো মূল্যায়ন সংস্কৃতিতে। আমরা শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের দায়িত্ব দিয়েছি পরীক্ষককে। সেই দায়িত্ব পালনে সততা না থাকলে একটি নম্বর শুধু বদলায় না, একটি শিশুর ভবিষ্যৎও বদলে যেতে পারে।

মাসুক এতক্ষণ চুপচাপ বসেছিল। হঠাৎ সে প্রশ্ন করল,

— স্যার, তাহলে কি শুধু পরীক্ষকই দায়ী? আমরা ছাত্ররাও কি দায়মুক্ত?

আবদুল করিম সাহেব তার দিকে তাকালেন।

— কেন বলছ?

— আমি বন্ধুর ফলাফল নিয়ে সন্দেহ করেছিলাম। তার অজান্তে আবেদন করেছি। হয়তো আমার উদ্দেশ্য সত্য জানা ছিল, কিন্তু বন্ধুকে না জানিয়ে কাজটা করা কি ঠিক হয়েছে? আমাদের মধ্যে এখন ভালো ফল নিয়ে প্রতিযোগিতা, কে কার চেয়ে এগিয়ে যাবে সেই চিন্তা। কেউ ভালো করলে অভিনন্দন না জানিয়ে সন্দেহ করি। তাহলে আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য কী?

শিক্ষক মৃদু হেসে বললেন,

— তুমি অন্তত নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছ। মনে রেখো, শিক্ষা শুধু বইয়ের উত্তর মুখস্থ করা নয়। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে শেখায়, অন্যের অধিকারকে সম্মান করতে শেখায়।

কথাগুলো শুনে মিশকাতুন নূর মাথা নিচু করল।

কয়েক দিন পর স্কুলের এক আলোচনায় বিষয়টি উঠল। প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। একজন অভিভাবক বললেন,

— এখন শিক্ষার মান বলতে আমরা বুঝি জিপিএ-৫, ভালো কলেজ আর সার্টিফিকেট। সন্তান কতটা মানবিক হলো, কতটা সত্যবাদী হলো, কতটা দায়িত্বশীল হলো, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই।

একজন শিক্ষক প্রতিবাদ করলেন,

— সব শিক্ষককে একইভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না। অধিকাংশ শিক্ষক দায়িত্ব নিয়েই কাজ করেন। তবে যারা পরীক্ষার খাতা না দেখে অন্যের হাতে তুলে দেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হওয়া দরকার।

প্রধান শিক্ষক বললেন,

— শুধু শাস্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষক নিয়োগ, খাতা বণ্টন, মূল্যায়ন, পুনর্নিরীক্ষণ—প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর খাতা যেন আরেকজনের অবহেলার শিকার না হয়।

মিশকাতুন নূর এতক্ষণ চুপ করে ছিল। এবার সে উঠে দাঁড়াল।

— স্যার, আমাদের কাছে আপনারা সব সময় বলেন, জীবনে সৎ হতে হবে। পরীক্ষায় নকল করা যাবে না, অন্যায় করা যাবে না। কিন্তু যাঁরা আমাদের খাতা দেখেন, তাঁরাও কি একই শিক্ষা মেনে চলেন না? আমরা ভুল করলে শাস্তি পাই। যাঁদের ভুলে আমাদের জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে যেতে পারে, তাঁদের জবাবদিহি কে নিশ্চিত করবে?

ঘরটি কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

মাসুকও এবার কথা বলল।

— আমরা শিক্ষার্থীরা ভালো ফল চাই। অভিভাবকেরা চান সন্তান জিপিএ-৫ পাক। শিক্ষক চান প্রতিষ্ঠানের ফল ভালো হোক। সবাই ফলাফলের পেছনে ছুটছি। কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের জন্য কতটা সময় দিচ্ছি? আমরা কি সত্যিই জ্ঞানী হচ্ছি, নাকি শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল শিখছি?

আবদুল করিম সাহেব মিশকাতুন নূরের মাথায় হাত রেখে বললেন,

— মনে রেখো, একটি পরীক্ষায় ফেল করা মানে জীবনে ফেল করা নয়। কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে অন্যের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা একজন শিক্ষকের পেশাগত সততার পরাজয়। আর শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সাফল্য হওয়া উচিত এমন মানুষ তৈরি করা, যারা সত্যকে ভয় পায় না এবং দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যায় না।

সেদিন বাড়ি ফেরার পথে মিশকাতুন নূর স্কুলের দেয়ালে লেখা একটি বাক্যের সামনে দাঁড়াল—‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’।

সে দীর্ঘক্ষণ বাক্যটির দিকে তাকিয়ে রইল।

তার মনে হলো, মেরুদণ্ড শুধু কথায় শক্ত হয় না। তার জন্য প্রয়োজন সততা, যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ এবং ন্যায়বিচার।

একটি খাতায় শূন্যকে ৮৫ বানানো হয়েছে। আরেকটি খাতায় ১৩-কে ৮৩। হয়তো তদন্তে অপরাধী শনাক্ত হবে, মামলা হবে, শাস্তিও হবে। কিন্তু এই ঘটনা যে প্রশ্নগুলো সামনে এনে দিয়েছে, সেগুলোর উত্তর কি এত সহজ?

সরকার কি শুধু ফলাফল প্রকাশ ও পরীক্ষার আয়োজনের মধ্যেই শিক্ষার দায়িত্ব শেষ করতে পারে? শিক্ষকতা কি কেবল একটি চাকরি, নাকি লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ গড়ার আমানত? অভিভাবকেরা কি সন্তানদের শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য বড় করবেন? আর শিক্ষার্থীরা কি একে অন্যকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে জ্ঞান ও মানবিকতার পথে হাঁটতে শিখবে?

মিশকাতুন নূর জানে না, তার নিজের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। কিন্তু সে একটি বিষয় বুঝেছে—একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান শুধু কতজন শিক্ষার্থী পাস করল, কতজন জিপিএ-৫ পেল, তা দিয়ে বিচার করা যায় না।

বিচার করতে হয়, সেই ব্যবস্থায় কতটা সততা আছে, কতটা ন্যায়বিচার আছে এবং কতটা মানুষ তৈরি হচ্ছে।

কারণ, শূন্যকে পঁচাশি বানানো যায়, ১৩-কে ৮৩ করা যায়, কিন্তু একটি প্রজন্মের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসকে কোন নম্বর দিয়ে ফিরিয়ে আনা যাবে?

সেদিন মিশকাতুন নূরের মনে হয়েছিল, তার নিজের ফলাফলের চেয়েও বড় একটি পরীক্ষা চলছে—সেই পরীক্ষায় বসেছে বাংলাদেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা।

লন্ডন, ৩০ অক্টোবর ২০২৬