‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিদায়ের সম্ভাবনা, নতুন সরকার কবে?
ভয়েস অব পিপল আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ৩১ অক্টোবর :
ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তাঁর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন, বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি এবং আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।
বিশ্লেষণে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো একজোট হতে পারলে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে। বিরোধী জোটের ৪৮ আসনের সঙ্গে আরব দলগুলোর ১৯ আসন যুক্ত হলে মোট আসন দাঁড়ায় ৬৭। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধী শিবিরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের আপত্তি রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ও নাফতালি বেনেট নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। ফলে নেতানিয়াহুর জন্যও নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তরের পর। প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন একজন সংসদ সদস্যকে। প্রথম দফায় তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে।
কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিকল্প প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আগামী বছরের শুরুতে নতুন নির্বাচন হতে পারে। তত দিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর জোট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার গঠনের নিশ্চিত পথ হারিয়েছে। এখন বিরোধী দলগুলোর ঐক্য এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতাই ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।