ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সিলেট বোর্ডের এইচএসসি পাসের হার

দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন সিলেট বোর্ডের এইচএসসি পাসের হার

সিলেট প্রতিনিধি, ১ নভেম্বর:

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাস করেছেন মাত্র ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত দুই দশকের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ২০০৬ সালের পর এবারই বোর্ডটিতে পাসের হার এত নিচে নেমেছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফলাফলে অবনতি হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার মান ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াছমীন ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি পিছিয়ে পড়েছেন এবং কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হবে। ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি সামগ্রিক পাসের হারে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালে আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ফল খারাপ হওয়ার কারণ হতে পারে। শিক্ষার মান এবং বোর্ডের ফলাফল উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৫ সালে সিলেটে পাসের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। পরের বছর ২০০৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে। এরপর কয়েক বছর ফলাফলে উন্নতি ঘটে। ২০১০ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ২০১২ সালে তা বেড়ে ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছায়।

তবে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ফলাফলে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। ২০১৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশে।

করোনা মহামারির সময় পরীক্ষার পদ্ধতি ও মূল্যায়নে পরিবর্তন আসায় ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ২০২০ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ১০০ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতেও বিশেষ মূল্যায়ন ও সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের সময় পাসের হার তুলনামূলক বেশি ছিল। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তা ৮৫ দশমিক ৩৯ থেকে ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশের মধ্যে ছিল।

কিন্তু ২০২৫ সালে ফলাফলে বড় ধস নামে। ওই বছর পাসের হার কমে দাঁড়ায় ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশে। চলতি বছর আরও কমে হয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় এক শতাংশ পয়েন্ট।

পরপর দুই বছর এমন ফলাফলে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান এবং সামগ্রিক মূল্যায়নব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে ফলাফলের প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়ভিত্তিক ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশ্লেষণ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।