বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথাও বিবেচনা করছে সরকার

তীব্র গরম ও দাবানল: জরুরি কোবরা বৈঠকে অ্যান্ডি বার্নহাম

তীব্র গরম ও দাবানল: জরুরি কোবরা বৈঠকে অ্যান্ডি বার্নহাম

লন্ডন, ১২ আগস্ট : তীব্র তাপপ্রবাহ, ভয়াবহ দাবানল ও খরার পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি কোবরা বৈঠকে বসছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সভাপতিত্বে বুধবারের এই বৈঠকে দাবানল নিয়ন্ত্রণ, পানি সরবরাহ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে জরুরি পদক্ষেপের বিষয়টি আলোচনায় আসবে।

এবারের গ্রীষ্মে এটি তাপপ্রবাহ নিয়ে দ্বিতীয় জরুরি কোবরা বৈঠক। চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে পাঁচ দফা তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। বুধবার তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে এবং বৃহস্পতিবার কোথাও কোথাও ৩৮ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে দাবানলের বিস্তারে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে এ বছর এখন পর্যন্ত ৯৫০টির বেশি দাবানলে ফায়ার সার্ভিসকে কাজ করতে হয়েছে। শুধু আগস্টের প্রথম ১০ দিনেই ঘটেছে ১৮৫টি দাবানল। জুলাই ছিল দাবানলের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যস্ত মাস—ওই মাসে ৪৫০টির বেশি আগুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

দাবানলের ঝুঁকি কমাতে একবার ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথাও বিবেচনা করছে সরকার। বার্নহাম বলেছেন, দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক অনেক আগুনের সঙ্গে এসব বারবিকিউয়ের যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গা ও গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের বারবিকিউ ব্যবহার না করতে জনগণের প্রতি জোরালো সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে নিউ ফরেস্টে চলমান দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ারফাইটাররা রাতভর কাজ করেছেন। আগুনের কারণে এ৩১ সড়কের একটি অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ধোঁয়ার ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

তবে শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় আরও বড় পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। কয়েকজন লেবার এমপি মনে করছেন, ব্রিটেনের জলবায়ু অভিযোজন নীতি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি জরুরি বৈঠককে স্বাগত জানালেও আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেছেন। এর মধ্যে দাবানল মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ, প্রতিটি কমিউনিটিতে শীতল থাকার ব্যবস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।

খরার পরিস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এবং পুরো ওয়েলস বর্তমানে খরাকবলিত। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি ও অতিরিক্ত গরমে পানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে।

সরকার জানিয়েছে, বৈঠকে পরিবেশ, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার ও মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আবহাওয়া দপ্তর, এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। লক্ষ্য—চলমান তাপপ্রবাহ ও দাবানলে মানুষের জীবন রক্ষা, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ক্ষতি কমানো।

তবে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের মধ্যে সরকারের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো—শুধু জরুরি বৈঠক ও জনসচেতনতার বাইরে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।