ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

দরিদ্র এলাকাগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের ‘ন্যায্য অংশ’ নিয়েছে, এবার ধনী এলাকায়ও দিতে হবে: ব্রিটিশ অভিবাসনমন্ত্রী

দরিদ্র এলাকাগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের ‘ন্যায্য অংশ’ নিয়েছে, এবার ধনী এলাকায়ও দিতে হবে: ব্রিটিশ অভিবাসনমন্ত্রী

লন্ডন, ১২ আগস্ট: যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব বিতরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী আনা টারলি বলেছেন, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র এলাকাগুলো ইতোমধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের ‘ন্যায্য অংশ’ গ্রহণ করেছে। এখন তুলনামূলকভাবে সচ্ছল এলাকাগুলোকেও এই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের রাজনৈতিক লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মন্ত্রী এমন সময় এ মন্তব্য করলেন, যখন সরকার হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করে বড় ও নির্দিষ্ট স্থাপনায় তাদের আবাসনের পরিকল্পনা করছে। এর অংশ হিসেবে অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটনের কাছে একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার ২৫০ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

টারলির বক্তব্য মূলত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সাম্প্রতিক অবস্থানের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বার্নহাম ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে দেশের তুলনামূলক সচ্ছল এলাকাগুলোর কাছ থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা নেওয়া উচিত।

সরকারের যুক্তি, আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের চাপ কয়েকটি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা এলাকার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বেশি পড়েছে। ফলে জাতীয়ভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ভারসাম্য প্রয়োজন।

অন্যদিকে, সরকারের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমানো। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ইতোমধ্যে ৪৪টি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বড় আকারের নির্দিষ্ট আবাসনকেন্দ্রে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন নীতি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব কোন এলাকায় কতটা দেওয়া হবে—এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, কাউন্সিল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে।

সরকার অবশ্য বলছে, উদ্দেশ্য কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার ওপর চাপ সৃষ্টি করা নয়; বরং পুরো দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব তুলনামূলকভাবে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা।

ব্রিটেনে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়টি বর্তমানে দেশটির রাজনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু। ফলে দরিদ্র এলাকার পর এবার ধনী এলাকাগুলোকেও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান ভবিষ্যৎ অভিবাসন নীতির বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে।