ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর তালিকায় প্রায় এক হাজার বাংলাদেশি
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১৩ আগস্ট: কানাডায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান কিংবা বিভিন্ন কারণে দেশটিতে থাকার অনুমতি হারানো বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশটি থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এমন বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৯৬৮। এ হিসাবে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা নাগরিকের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষ দশে।
তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক—৭ হাজার ৬৬৯ জন। এরপর মেক্সিকোর ৬ হাজার ৫৬১, যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৭৯, চীনের ১ হাজার ৮৯২, নাইজেরিয়ার ১ হাজার ৬৪৭ এবং কলম্বিয়ার ১ হাজার ২৩৭ জন রয়েছেন। পাকিস্তান, ব্রাজিল ও চিলির নাগরিকের সংখ্যাও এক হাজারের বেশি।
সিবিএসএর পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই কানাডা থেকে ২২৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩০৮। পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যাটি কিছুটা ওঠানামা করলেও কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোরতা বাড়ার সঙ্গে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমও গুরুত্ব পাচ্ছে।
কানাডায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আশ্রয় আবেদন। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ভিজিটর ভিসায় কানাডায় গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ১৭৫ জনের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
কানাডায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিভিন্ন দেশের ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জনই রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে আশ্রয় আবেদন ও প্রত্যাবাসন—দুই ক্ষেত্রেই কঠোরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শুধু কানাডা নয়, ইউরোপেও বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের পরিস্থিতি কঠিন হচ্ছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বাংলাদেশিদের ৩৬ হাজার ৯০১টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রথমবারের আবেদন ছিল ৩৫ হাজার ২৪৫টি।
একই বছরে বাংলাদেশিদের ৪৩ হাজার ৫২৩টি আবেদনের ওপর প্রথম ধাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বছরের শেষে ৪১ হাজার ৬৯২টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। প্রথম ধাপে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণের হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বেড়ে যাওয়া এবং অবৈধ পথে প্রবেশের ঘটনা বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসা ব্যবহার কিংবা ভিত্তিহীন আশ্রয় আবেদন করলে ভবিষ্যতে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কানাডার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা এবং প্রত্যাবাসনের প্রবণতা তাই শুধু অভিবাসন নয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও বৈধ শ্রমবাজারের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।