ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
বিশ্বকাপে এশিয়ার উত্থান, ইউরোপের আধিপত্য কি চ্যালেঞ্জের মুখে?
স্পোর্টস ডেস্ক | ডেইলি ভয়েস অব পিপল
ফুটবল বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার আধিপত্য স্বীকৃত বাস্তবতা। তবে চলমান বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স নতুন এক প্রশ্ন সামনে এনেছে—বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার ভারসাম্য কি ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে?
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) দলগুলো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চমকপ্রদ ফল করছে। দক্ষিণ কোরিয়া চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া জয় পেয়েছে তুরস্কের বিপক্ষে, কাতার সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করেছে এবং জাপান শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট আদায় করেছে।
বিশেষ করে জাপানের পারফরম্যান্স ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। নেদারল্যান্ডসের মতো ঐতিহ্যবাহী শক্তির বিপক্ষে তারা শুধু সমতা ফেরায়নি, বরং ম্যাচের দীর্ঘ সময়জুড়ে আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে। শেষ মুহূর্তে দাইচি কামাদার গোল জাপানকে ড্র এনে দেয় এবং প্রমাণ করে দেয় যে এশিয়ার শীর্ষ দলগুলো এখন আর শুধু অংশগ্রহণ করতে আসে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও আসে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়ও ছিল দৃষ্টিনন্দন। অভিজ্ঞ সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে কোরিয়ানরা দ্রুতগতির পাসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তুরস্কের বিপক্ষে কৌশলগত ফুটবলের মাধ্যমে জয় তুলে নেয়। গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের অসাধারণ নৈপুণ্য সেই জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
কাতারের ড্র অবশ্য কিছুটা ভাগ্যের সহায়তায় এসেছে। সুইজারল্যান্ড পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করলেও সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়েছে। তবু বিশ্বকাপের মতো আসরে একটি পয়েন্টও গুরুত্বপূর্ণ এবং কাতার তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে মানসিকতায়। একসময় ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই অনেক এশীয় দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যেত। এখন সেই চিত্র বদলেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে আর কোনো হীনমন্যতা নেই। তারা বিশ্বাস করছে যে বড় দলগুলোকেও হারানো সম্ভব।
জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু সম্প্রতি প্রকাশ্যেই বলেছেন, তার দল শুধু শেষ ষোলোর স্বপ্ন দেখছে না, বিশ্বকাপ জয়ের কথাও ভাবছে। এমন বক্তব্য কয়েক বছর আগেও অবাস্তব মনে হতো, কিন্তু বর্তমান পারফরম্যান্স সেই স্বপ্নকে আর পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না।
বিশ্বকাপের মাত্র প্রথম সপ্তাহ শেষ হয়েছে। তাই এখনই বিশ্ব ফুটবলের ক্ষমতার কেন্দ্র বদলে গেছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, এশিয়ার দলগুলো আর কেবল ‘আন্ডারডগ’ নয়। তারা এখন এমন প্রতিপক্ষ, যাদের অবহেলা করার সুযোগ নেই।
চলমান বিশ্বকাপ হয়তো শেষ পর্যন্ত ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের হাতেই উঠবে। কিন্তু এশিয়ার দলগুলো ইতোমধ্যে একটি বার্তা দিয়ে দিয়েছে—বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ মানচিত্রে তাদের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।