শেষ হাসি স্পেনের
অতিরিক্ত সময়ের নাটকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন, বিষণ্ন বিদায় মেসির
ভয়েস অব পিপল স্পোর্টস ডেস্ক, ২০ জুলাই:
ফুটবলের নতুন বিশ্বসম্রাট স্পেন। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল ইউরোপের দলটি। একই সঙ্গে শেষ হলো লিওনেল মেসির বর্ণাঢ্য বিশ্বকাপ অধ্যায়—ট্রফি নয়, পরাজয়ের বেদনাকে সঙ্গী করেই।

পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো এক মাসের ফুটবল উৎসব। স্পেনের অধিনায়কের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি ওঠার মুহূর্তে উল্লাসে ফেটে পড়ে লাল-হলুদ সমর্থকদের সমুদ্র। অপরদিকে মাথা নিচু করে রৌপ্যপদক গ্রহণ করেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা।

পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলের দেখা না মিললেও অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে জয়ের গোল করেন বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস।

আক্রমণহীন আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। পুরো নির্ধারিত সময়ে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি—বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে যা নজিরবিহীন। ম্যাচের বড় অংশজুড়ে দলটি রক্ষণাত্মক কৌশল, ফাউল এবং খেলা ভাঙার চেষ্টাতেই বেশি মনোযোগী ছিল।

৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচে তিনি খুব কমই প্রভাব ফেলতে পেরেছেন।
স্বর্ণপ্রজন্মের স্বীকৃতি
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত স্পেনের খেলোয়াড়েরা বলেন, এই দলটি শুধু প্রতিভাবান নয়, একে অপরের সঙ্গে পরিবারের মতো যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা আবারও প্রমাণ করল, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ ফুটবল খেলছে তারাই।
বিতর্কও ছিল পুরস্কার মঞ্চে

ফাইনালের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও তৈরি হয় বিতর্ক। স্টেডিয়ামে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মঞ্চে ওঠার সময় দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন। তবে সেই বিতর্ক দ্রুতই চাপা পড়ে স্পেনের শিরোপা উৎসবের উচ্ছ্বাসে।
মেসির কিংবদন্তি অমলিন

এই হার লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ যাত্রার শেষ অধ্যায় হলেও তাঁর ফুটবল-ঐতিহ্যে কোনো দাগ ফেলতে পারবে না। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়সহ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে শেষ ম্যাচে তিনি আর জাদু দেখাতে পারেননি; স্পেনের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলের সামনে আর্জেন্টিনা ছিল সম্পূর্ণ অসহায়।

বিশ্বকাপের শেষ রাতে তাই একদিকে স্পেনের স্বর্ণালি উদযাপন, অন্যদিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ তারকার নীরব বিদায়—দুই বিপরীত আবেগই ধরা থাকল ২০২৬ বিশ্বকাপের সমাপ্তি অধ্যায়ে।