বাংলাদেশে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে জোর আলোচনা, আলোচনায় যেসব নতুন মুখ

বাংলাদেশে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে জোর আলোচনা, আলোচনায় যেসব নতুন মুখ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ মে: 

বাংলাদেশ সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা, একাধিক মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপ কমানো এবং দল ও শরিক জোটের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরির লক্ষ্যেই এই সম্প্রসারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। সরকার ও বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এবার প্রবীণ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনা হতে পারে।

বিশেষ করে যেসব মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, সেসব জায়গায় নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন—

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। অতীতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে সংসদের উপনেতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

ড. আবদুল মঈন খান
দলের অন্যতম প্রবীণ নেতা। শিক্ষা, পরিকল্পনা বা নীতিনির্ধারণী কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। অভিজ্ঞতার কারণে তাকে আবারও মন্ত্রিসভায় আনার আলোচনা রয়েছে।

বেগম সেলিমা রহমান
বিএনপির প্রভাবশালী নারী নেত্রীদের একজন। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরকত উল্লাহ বুলু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। বাণিজ্য বা শিল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

নজরুল ইসলাম আজাদ
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতা। তরুণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল
নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য। সাংগঠনিক ও পেশাগত দক্ষতার কারণে তার নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক
নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিকিৎসক। স্বাস্থ্য বা সমাজকল্যাণসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে তাকে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

আলী আজগর লবি
খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য। দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তার নাম আলোচনায় এসেছে।

সেলিমুজ্জামান সেলিম
গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। সাংগঠনিক সক্রিয়তার কারণে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

শহীদুল ইসলাম বাবুল
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক। কৃষি বা গ্রামীণ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে তার নাম শোনা যাচ্ছে।

শরিক দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—

শাহাদাত হোসেন সেলিম
১২ দলীয় জোটের নেতা। দীর্ঘদিন আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তাকে টেকনোক্র্যাট বা প্রতিমন্ত্রী পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।

আন্দালিভ রহমান পার্থ
বিজেপি চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য। সংসদে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে—

রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দীর্ঘদিনের মুখপাত্র। রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তাকে মন্ত্রিসভায় আনার জোর আলোচনা রয়েছে।

শামসুজ্জামান দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে আলোচনায় আছেন।

ডা. মওদুদ আহমেদ পাভেল
বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তার নামও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।

তবে শেষ পর্যন্ত কারা মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন, সেটি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তাই অপেক্ষা—কবে আসছে বহুল আলোচিত মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা।