পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভে উত্তাল ভারত, দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা মোদির

পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের ক্ষোভে উত্তাল ভারত, দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা মোদির

কোলকাতা প্রতিনিধি, ২৪ জুলাই:

ভারতে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বার্তায় মোদি বলেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যারা পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ধ্বংস করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই ঘোষণাকে যথেষ্ট বলে মানতে রাজি নয়। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শুধু দ্রুত বিচার আদালত গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের অভিযোগ, গত এক দশকে অসংখ্য প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কার্যত কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। তাই তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করে আসছেন।

গত কয়েক দিনে দিল্লিতে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পুলিশের অনুমতি না পেলেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাজধানীতে বিক্ষোভে অংশ নেন। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এরপরও বহু আন্দোলনকারী দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন খাবার, পানি এবং অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে ‘আরশোলা’দের এই অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। প্রায় ৫০০০ পুলিশ ও আধা সেনা নামিয়ে কার্যত ঘিরে ফেলা হয় যন্তর মন্তর চত্ত্বর। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। তারপর থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি রাজধানীতে। বুধবার রাতে তাঁদের কয়েকজন সদস্য পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে দেশের অন্যত্রও। শুক্রবার সারা দেশেই বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে আরশোলাদের।ইননারী আন্দোলন

শুধু দিল্লিই নয়, মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, ইন্দোর ও পাতিয়ালাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও সংহতি কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

এদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেছেন, গত এক দশকে দেশে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ একটিতেও কার্যকর দণ্ড হয়নি। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা অভিযোগ করেন, বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো আলোচনা হলে তা আন্দোলনস্থলেই প্রকাশ্যে হতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নফাঁসের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এখন একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সরকারের নতুন উদ্যোগ সেই ক্ষোভ কতটা প্রশমিত করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।