ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
কলিকালের কলধ্বনি ।। ১৩৬ ।। হযরত শাহজালাল (রহ:) বা দরবেশদের মাজারে মানত, মৃতের কাছে প্রার্থনা ও ইসলামের অবস্থান
উৎসর্গ
“যারা ধর্মকে অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করে বুঝতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে”

লেখালেখি করছি সেই নব্বই দশক থেকে। কারণ হলো নিজে সচেতন হওয়া এবং অপরকে সেইভাবে সচেতন করে তোলা। কিন্তু ইদানীং মাঝে মাঝে, দেশে ও বিদেশে, আমাদের বাঙালিদের নীতি-নৈতিকতার নিম্নমুখিতা দেখে, ক্ষোভে ও দুঃখে মনে হয় এসব লেখালেখি বন্ধ করে দিই। কারণ মানুষ দেখছি আগের মতোই রয়ে গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে মানত, টাকা-পয়সা ইত্যাদি নিয়ে যা দেখছি আর যা পত্রিকায় পড়ছি, তাতে মনে হয় মানুষ দিন দিন বরং আরও নিচের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই লেখালেখি করে লাভ কি হচ্ছে-এ প্রশ্ন অনেক সময় মাথায় চলে আসে। কিন্তু অভ্যাসের বশে আবার লেখার টেবিলে গিয়ে বসতে হয়।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগার আশপাশে বেড়ে ওঠা, বড় হওয়া এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় লন্ডনে বসবাস করার পরও এই দরগা ও তথাকথিত মুসলমানদের যে মান ছিল, এখন তার চেয়েও নিচের দিকে নেমে গেছে বলে মনে হয়। সাম্প্রতিক খবরে প্রকাশ, মাত্র তিন দিনে নাকি শাহজালালের বড় ডেকচির দানবাক্সে প্রায় সাড়ে সতেরো লক্ষ নগদ টাকা, পাউন্ড, ডলার, এমনকি সোনার অলংকারও জমা হয়েছে—যা মানুষ দান বা মানত হিসেবে দিয়েছে।
আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, দরগার আশপাশে বসবাসকারী একদল তথাকথিত খাদেম সম্প্রদায় এসব টাকা-পয়সা নানা উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করে। তারপরও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ খয়রাত করে যাচ্ছে। দেশে থাকাকালীন সময়ে, ভারতে ভ্রমণ এবং লন্ডনে বসবাসের অভিজ্ঞতায় বহু বাঙালির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, অনেক অতি উচ্চশিক্ষিত মানুষও এভাবে মাজারে গিয়ে পীরদের দরগায় মানত করেন, টাকা-পয়সা দান করেন, দরবেশদের কবরে গিয়ে দোয়া চান। দেশের অনেক জ্ঞানীগুনীর মুখে শুনি ‘‘শাহজালালাল বাবা’। কিন্তু উনি তো বিয়েই করেননি। উনি কারো ‘বাবা‘ হন কিভাবে?
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে ট্রেনে, বাসে শত শত মানুষ দরগায় আসেন নানা মানত নিয়ে। কিন্তু ইসলামে, মাত্র তিনটি মসজিদ ছাড়া, অন্য কোন মসজিদে বা কারো কবরে এভাবে নিয়ত করে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এই দিনটি মসজিদ হচ্ছে, সৌদি আরবের কাবা, মসজিদে নববী ও জেরুজালেমের বায়তুল মোকাদ্দস। এই সাধারণ তথ্যটিও অনেক শিক্ষিত লোকজন জানেন না। আবার অনেকে লন্ডন, আমেরিকা থেকে দেশে পৌছেই আগেভাগে দরগায় গিয়ে দোয়া চান। আবার দান খয়রাত ও মানত করে আসেন। কারণ ডলার, পাউন্ডের তো আর অভাব নেই। এমনকি, দেশের সব বড় বড় নেতানেত্রীরা ইলেকশনের আগে এই দরগাহে এসে দোয়া চেয়ে বা মানত করে কিছু দিয়ে যান।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক তথাকথিত প্রগতিশীল ব্যক্তিও এসব কাজে যুক্ত। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এদের প্রায় সবাই নিজেদের মুসলিম পরিচয় বহন করেন এবং এটিকে পুণ্যের কাজ বলেই বিশ্বাস করেন। অবশ্য এখানে অন্যান্য ধর্মের মানুষজন এসেও মানত করে যান। এখন প্রশ্ন হলো—এই শিক্ষিত সমাজের ধারণার সঙ্গে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার কোনো মিল আছে কি না। এখন আমরা সেই বিষয়টিই কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে পর্যালোচনা করব।
বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বহু মুসলমানের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো—“আল্লাহর খাঁটি বান্দারা মরে না।” এই কথাটি বলেই অনেকে যুক্তি দেন যে কোনো পীর, দরবেশ বা অলির মৃত্যুর পরও তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া, মানত করা বা বিপদমুক্তির জন্য তাঁর মাজারে গিয়ে প্রার্থনা করা বৈধ। কেউ কেউ বলেন, “আমরা তো তাদের ইবাদত করি না, শুধু উসিলা হিসেবে ধরি।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোরআন ও সহিহ হাদিস এ বিষয়ে কী বলে?
“উসিলা” (الوسيلة) শব্দটি আরবি, যার অর্থ হলো—মাধ্যম, নিকটবর্তী হওয়ার উপায় বা আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথ।
কোরআনে “উসিলা” শব্দটি স্পষ্টভাবে এসেছে:
“হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর দিকে উসিলা (নৈকট্যের মাধ্যম) অনুসন্ধান করো…”
(সূরা আল-মায়িদা ৫:৩৫)
ইসলামি ব্যাখ্যায় (তাফসিরে ইবনে কাসিরসহ) উসিলা বলতে বোঝানো হয়েছে—আল্লাহর নৈকট্য লাভের বৈধ উপায়গুলো, যেমন: ঈমান, সৎকর্ম, সালাত, দোয়া, রোজা, দান-সদকা, আল্লাহর নাম-গুণাবলির মাধ্যমে দোয়া করা ইত্যাদি।
সহিহ হাদিসেও দেখা যায়, সাহাবারা আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন সরাসরি আল্লাহকে ডেকে বা জীবিত নেককার ব্যক্তির দোয়ার মাধ্যমে। যেমন তিন ব্যক্তি গুহায় আটকে পড়লে তারা তাদের সৎ আমলগুলোকে উসিলা বানিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিল (সহিহ বুখারি)।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
ইসলামে “উসিলা” মানে কখনোই মৃত ব্যক্তিকে সরাসরি আহ্বান করা বা তাদের কাছে প্রার্থনা করা নয়। বরং আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর জন্য বৈধ ও শরিয়তসম্মত মাধ্যম অবলম্বন করা।
তাই “আমরা তাদের উসিলা ধরি” কথাটি ব্যবহৃত হলে, কোরআন-হাদিসের আলোকে উসিলা বলতে বোঝায়—আল্লাহর কাছে দোয়া কবুলের জন্য বৈধ আমল ও উপায় গ্রহণ করা, কোনো ব্যক্তিকে ইবাদতের লক্ষ্য বানানো নয়।
অনেকে বলেন, দরবেশরা আল্লাহ পথের দিশারী। এরা সুপারিশ করতে পারেন, এরা জীবিত আছেন কবরে ইত্যাদি। আসুন দেখা যাক আল্লাহ কি বলেন আর কিভাবে বলেন-
“আল্লাহর পথে নিহতরা মৃত নয়” — আয়াতের প্রকৃত অর্থ
অনেকে নিচের আয়াতটি উদ্ধৃত করেন—
“আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা উপলব্ধি কর না।”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৫৪
এছাড়া আল্লাহ বলেন—
“তোমরা যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না; বরং তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত।”
— সূরা আলে ইমরান ৩:১৬৯
এই আয়াতগুলো শহীদদের বিশেষ মর্যাদা সম্পর্কে। এখানে কোথাও বলা হয়নি যে পৃথিবীর মানুষ তাদের কাছে সাহায্য চাইবে, তাদের উদ্দেশ্যে মানত করবে, অথবা তাদের ডাকলে তারা মানুষের আরজি শুনবে। আর আল্লাহ্ তো বলেই দিচ্ছেন, তাঁরা আল্লাহর কাছ থেকে রিজিকপ্রাপ্ত। তাহলে ওদের কবরে গিয়ে আপনি কেন টাকা দিচ্ছেন আর খাদেমদের পেট বড় করছেন, আর আল্লাহর আদেশ চরমভাবে অমান্য করছেন?
শহীদরা আল্লাহর কাছে বিশেষ জীবন লাভ করেন, কিন্তু সেই জীবন বারযাখের জীবন, দুনিয়ার মানুষের মতো নয়। ওখানে জাগতিক খাওয়া দাওয়ার দরকার হয় না। আর তাই তাঁদের কবরের উপরে গম্বুজের মতো উঁচু পাকা দালান তুলে, ওরসের নামে গিলাফ পরানোর দরকার হয় না। সেখানে আপনার মানতের টাকারও দরকার তো নেই। কারণ সেখানে কেনাকাটা করারও তাঁদের দরকার হয় না। এটা তো সাধারণ বুদ্ধিতেই আসার কথা। এসব বুঝতে কি ‘ইসলামী ধর্মতত্ত্বে’ পিএইচডি করতে হয় নাকি?
মৃতরা কি মানুষের ডাক শুনতে পারেন?
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই তুমি মৃতদের শুনাতে পারবে না।”
— সূরা আন-নামল ২৭:৮০
আরও বলেন—
“তুমি কবরে থাকা লোকদের শুনাতে সক্ষম নও।”
— সূরা ফাতির ৩৫:২২
এই আয়াতগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে মৃতদের কাছে সাহায্য চাওয়া বা তাদের ওপর নির্ভর করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
বিপদে কাকে ডাকতে হবে?
কোরআনে আল্লাহ বলেন—
“আর মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য। অতএব তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে ডেকো না।”
— সূরা আল-জিন ৭২:১৮
আরও বলেন—
“তোমরা যদি তাদের ডাকো, তারা তোমাদের ডাক শুনবে না। আর শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরককে অস্বীকার করবে।”
— সূরা ফাতির ৩৫:১৪
এখানে আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে প্রার্থনা করা সঠিক পথ নয়। সুতরাং দরবেশ হযরত শাহজালাল রহ: বা অন্য কোন দরবেশরাও নিশ্চয়ই মানুষের দোয়ায় সাড়া দেবার কথা নয়। বরং হাশরের দিনে যখন মানুষ বলবে তারা ওদের ডেকেছিল দুনিয়াতে তখন এই দরবেশগণ আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে বলবেন, আমরা তো এদের ডাকতে বলিনি।
একবার বিবেক খাঁটিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যায়, তখন তো আর কিছুই করার থাকবে না। দুনিয়াতেও ফিরে আসা সম্ভব হবে না। তখন অবধারিতভাবে ঢুকতে হবে নিকৃষ্টতম স্থানে। সুতরাং দুনিয়াতে জীবিত থাকতেই তওবা করে এসব শিরক কাজ থেকে ফিরে আসতেই হবে-একজন মুসলমান মনে করলে নিজেকে।
মাজারে মানত করা কি বৈধ?
মানত একটি ইবাদত। ইবাদত কেবল আল্লাহর জন্য হতে পারে।
আল্লাহ বলেন—
“বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।”
— সূরা আল-আনআম ৬:১৬২
যদি কেউ বলে, “আমার ছেলে সুস্থ হলে অমুক মাজারে গরু দেব”, অথবা “অমুক পীর সাহেবের নামে টাকা দেব”, তাহলে সে একটি ইবাদতকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়। আরবের কাফের আবু জাহেল, আবু লাহাব, উৎবা, শাইবারাও ঠিক এ রকমই করতো। অথচ ওরা আবার এক আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসও করতো। আবার কাবার ভিতরে রাখা লাত, মানাত, উজ্জাহ ইত্যাদি ৩৬০টি দেবদেবীর কাছে মানতও করতো। ওরা হজ্বও করতো প্রতি বছর। হজ্বযাত্রী কাফেলার হাজীদেরকে ওরা পানি পান করাতো। দেখাশোনা করতো। একজন আল্লাহকে শিকার করার পরেও তো এরা স্বীকৃত ও ধিকৃত জাহান্নামী। কারণ ওরা এক আল্লাহকে বিশ্বাস করার পরও শিরক করতো। এদের এসব কর্ম কান্ড নিয়ে পরের পর্বে আরেকটি কলাম লেখার ইচ্ছে আছে।
হযরত মোহাম্মদ (সা.) কবরকে উপাসনাস্থল বানাতে নিষেধ করেছেন
হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে বলেছেন—
“আল্লাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ওপর লানত করুন। তারা তাদের নবীদের কবরকে উপাসনাস্থল বানিয়েছিল।”
— সহি আল বুখারি, হাদিস ১৩৩০; সহি মুসলিম, হাদিস ৫২৯
রাসূল (সা.) এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন যেন মুসলিমরাও একই ভুলে না পড়ে। রাসুল সা: এর কবরে গিয়েও এসব মানত করা নিষেধ। এমনকি কবরের দেয়ালে ধরে সালাম করলে পুলিশ পিটুনি দেয়। তাহলে দরবেশ শাহজালাল রহ:, শাহপরান রহ: বা খান জাহান আলী , আব্দুল কাদের জিলানী এঁদের কবরে তো অবশ্যই এসব মানত করা নিষেধ হবেই। রাসুল সা: এর কবরকে ‘কবর’ বলা হয়। আর এঁদের কবরকে ‘মাজার’ বলা হবে কেন তাহলে?
সবচেয়ে বড় গুনাহ: শিরক
আল্লাহ বলেন—
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এর নিচের গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।”
— সূরা আন-নিসা ৪:৪৮
আরও বলেন—
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।”
— সূরা আল-মায়িদা ৫:৭২
শিরক এমন একটি গুনাহ, যার ওপর তওবা ছাড়া মৃত্যু হলে মুক্তির কোনো সুযোগ নেই।
যারা অজ্ঞতাবশত এসব করে?
অনেক মানুষ পারিবারিক বা সামাজিক প্রথার কারণে মৃত দরবেশদের কবরে বা মাজারে যায়। তারা হয়তো মনে করে এটি ইসলামি আমল। কারও অন্তরের অবস্থা আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো সত্য জানার চেষ্টা করা। যখন কোরআন ও সহি হাদিসের দলিল সামনে আসে, তখন মুসলমানের কর্তব্য হলো সেই সত্যকে গ্রহণ করা। আসলে আমি এতক্ষণ রাত জেগে এ কাজটিই করার চেষ্টা করলাম। একজন কলামিস্ট বা গল্পকার বা উপন্যাসিকের কাজ হওয়া উচিত নিজে সচেতন হওয়া এবং তার সমকালীন মানুষকে সচেতন করা বৈকি। এই দায়িত্ববোধ থেকেই বিনা পারিশ্রমিকে দিনের পর দিন এইসব লেখালেখি।
তাহলে আমাদের করণীয় কি ?
মাজারে শায়িত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যায়, কারণ মৃত মুসলমানের জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। কিন্তু তার কাছে দোয়া চাওয়া, বিপদমুক্তি কামনা করা, সন্তান চাওয়া, চাকরি চাওয়া, মানত করা বা সাহায্য প্রার্থনা করা ইসলামের শিক্ষা নয়।
মুসলমানের আকিদা হওয়া উচিত—
“শুধু তোমারই ইবাদত করি এবং শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
— সূরা আল-ফাতিহা ১:৫
ইসলামের তাওহিদের শিক্ষা অত্যন্ত পরিষ্কার। সাহায্য, প্রার্থনা, মানত, ভয়, আশা ও ইবাদতের সব রূপ একমাত্র আল্লাহর জন্য। কোনো পীর, দরবেশ, ওলি বা মাজারবাসী ব্যক্তিকে সেই স্থানে বসানো যাবে না। একজন সত্যিকার মুসলমানের হৃদয়, প্রার্থনা ও ভরসার কেন্দ্র হবে একমাত্র মহান আল্লাহ।
লেখক: সম্পাদক, কলামিস্ট, গল্পকার, বিশ্লেষক ও সাবেক অধ্যাপক
লন্ডন, ২৭ জুন ২০২৬।