ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

প্রবীণদের সেবায় নতুন যুগের পথে ইংল্যান্ড, সামনে ব্যয়ের বড় চ্যালেঞ্জ

প্রবীণদের সেবায় নতুন যুগের পথে ইংল্যান্ড, সামনে ব্যয়ের বড় চ্যালেঞ্জ

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৮ জুলাই:

ইংল্যান্ডের প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা (Adult Social Care) ব্যবস্থাকে "ভেঙে পড়া" বলে আখ্যায়িত করে তা আমূল সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে কীভাবে এই সংস্কারের বিপুল ব্যয় মেটানো হবে, তা নিয়ে সরকার, বিরোধী দল এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষকে নিজের সেবার ব্যয় বহন করতে গিয়ে বাড়ি বিক্রি পর্যন্ত করতে হচ্ছে। ইংল্যান্ডে বর্তমানে যাদের সম্পদের মূল্য £২৩,২৫০-এর বেশি, তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজস্ব অর্থে সামাজিক সেবার খরচ বহন করতে হয়। ফলে অনেক পরিবার জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ছে।

সরকারের সামনে এখন কয়েকটি সম্ভাব্য সংস্কার মডেল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব হলো এনএইচএসের আদলে একটি জাতীয় কেয়ার সার্ভিস, যেখানে প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৩৫-৩৬ সালের মধ্যে বছরে প্রায় £১৮.৫ বিলিয়ন অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরেকটি বিকল্প হলো স্কটল্যান্ডের মতো ফ্রি পার্সোনাল কেয়ার ব্যবস্থা চালু করা। এতে ব্যক্তিগত পরিচর্যা, খাবার, ওষুধ ও দৈনন্দিন সেবার খরচ সরকার বহন করবে, যদিও গৃহস্থালি কাজ বা অন্যান্য কিছু সেবা আগের মতোই আয়ভিত্তিক থাকবে। এই মডেল বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত £৭.৫ বিলিয়ন প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়া আজীবন সামাজিক সেবা ব্যয়ের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবও আবার আলোচনায় এসেছে। পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ সরকার একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ব্যয় £৮৬,০০০ নির্ধারণের পরিকল্পনা করলেও তা কার্যকর হয়নি এবং পরে বাতিল হয়ে যায়। এই পদ্ধতি চালু করতে বছরে প্রায় £৪ বিলিয়ন অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

তবে যেকোনো সংস্কার পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর জন্য সাধারণ কর বৃদ্ধি, সম্পদ কর, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বা বাধ্যতামূলক সামাজিক বিমার মতো নতুন অর্থায়নের পথ বিবেচনা করতে হতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে ভিন্নমত স্পষ্ট। কনজারভেটিভ পার্টি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও কর বৃদ্ধি সমর্থন করছে না। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা সর্বদলীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কেউ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং চিকিৎসা বা পরিচর্যার খরচ মেটাতে কাউকে নিজের বাড়ি বিক্রি করতে না হয়। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ মৃত্যুর পর সম্পদের ওপর কোনো ধরনের কেয়ার লেভি আরোপের বিরোধিতা করে একে "ডেথ ট্যাক্স" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ সামাজিক সেবা ব্যবস্থার অর্থায়ন সম্পর্কে খুব বেশি অবগত নন। তবে অধিকাংশই চান সরকার এই খাতে আরও বড় ভূমিকা নিক, যাতে প্রবীণ ও অসহায় মানুষ মর্যাদার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ওপর—সংস্কারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা কি শেষ পর্যন্ত এর আর্থিক মূল্য পরিশোধের সাহসও দেখাতে পারবে?