ব্রিটেনের লেবার পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হলেন ব্রিজেট ফিলিপসন
লন্ডন, ২৮ জুলাই: যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিজেট ফিলিপসনকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে শিক্ষা সচিবের পদ হারানোর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে আসায় বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেছেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টিকে শক্তিশালী ও প্রস্তুত করে তুলতে ফিলিপসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি দলের সাংগঠনিক সংস্কার, কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির নেতৃত্ব দেবেন। এ দায়িত্বে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী লুসি পাওয়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
ফিলিপসন এর আগে ইংল্যান্ডের শিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদাসম্পন্ন (SEND) শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ এবং বেসরকারি স্কুলের ফিতে ভ্যাট আরোপের নীতির কারণে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত ছিলেন। এসব পদক্ষেপে যেমন সমর্থন পেয়েছেন, তেমনি বিরোধীদের তীব্র সমালোচনারও মুখে পড়েছেন।
গত সপ্তাহের মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লুসি পাওয়েলের হাতে গেলেও ফিলিপসন মন্ত্রিসভায় নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকেন। এখন সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি লেবার পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে ফিলিপসন বলেছেন, লেবারের আদর্শ এবং দলের তৃণমূল কর্মীদের কণ্ঠস্বরকে সরকারের নীতিনির্ধারণে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরাই হবে তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, “ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরা মানুষের মধ্যে নতুন আশা ফিরিয়ে আনতে পারব এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সমাজকে আরও শক্তিশালী করতে পারব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক রদবদলের পর ফিলিপসনকে এই দায়িত্ব দেওয়া বার্নহ্যামের পক্ষ থেকে দলীয় বিভিন্ন ধারা ও মতের নেতাদের এক ছাতার নিচে আনার বার্তা। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে লেবারের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করার কৌশলের অংশ হিসেবেই এই নিয়োগকে দেখা হচ্ছে।