ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ইংল্যান্ডে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর রেকর্ডের শঙ্কা, দুই মাসেই প্রাণহানি প্রায় ২,৯০০
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৩১ জুলাই:
চলতি গ্রীষ্মেই ইংল্যান্ডে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের তীব্র দাবদাহে আনুমানিক ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ গ্রীষ্মের সবচেয়ে উষ্ণ মাস আগস্ট এখনও বাকি।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA) জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত তাপপ্রবাহে প্রায় ৭৫৩ জন এবং ২১ থেকে ২৮ জুনের তীব্র গরমে আরও ২ হাজার ১২৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের পুরো গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহে রেকর্ড হওয়া মৃত্যুর প্রায় দ্বিগুণ।
এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডে তাপপ্রবাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ২০২২ সালে, যখন প্রায় ২ হাজার ৯৮৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছর সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহ না থাকলে একই সময়ের স্বাভাবিক মৃত্যুর হারের সঙ্গে তুলনা করে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই পরিসংখ্যান সরাসরি গরমের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী, ঘনঘন ও আরও তীব্র তাপপ্রবাহ ভবিষ্যতে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ এবং একাকী বসবাসকারীরা।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাও ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে। তাপপ্রবাহ চলাকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে রেকর্ডসংখ্যক জরুরি ফোনকল এসেছে। হাসপাতাল ও পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে।
চলতি বছরের জুনে ইংল্যান্ডের নরফোকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা জুন মাসের নতুন রেকর্ড। এর আগে মে মাসে লন্ডনের কিউ গার্ডেনে ৩১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও ওই মাসের সর্বোচ্চ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
জলবায়ু গবেষকদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বৈশ্বিক উষ্ণায়ন তাপপ্রবাহকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। তাই শুধু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নয়, ভবন, নগর অবকাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকেও ভবিষ্যতের চরম গরম মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখার কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আগামী বছরগুলোতে তাপপ্রবাহজনিত প্রাণহানি আরও বাড়তে পারে।