রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ; আগামীকালই জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে প্রথম পদক্ষেপের ঘোষণা

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, প্রথম নির্দেশই গৃহহীনতা দূর করার

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, প্রথম নির্দেশই গৃহহীনতা দূর করার

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২০ জুলাই :

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। সোমবার দুপুরে বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লস তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। বার্নহাম সেই আহ্বান গ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভ্যান হিলও রাজপ্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া প্রথম ভাষণে বার্নহাম নিজেকে গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্লান্ত। তিনি বলেন, "রাজনীতিকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে হবে। মানুষ রাজনীতিতে আস্থা হারিয়েছে। আমরা যথেষ্ট ভালো করতে পারিনি, এখন আরও ভালো করতে হবে।"

৪০ বছরের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি

নতুন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার হবে ব্রিটেনের জন্য একটি "সার্কিট ব্রেকার" এবং গত ৪০ বছরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলোকে আরও শক্তিশালী জননিয়ন্ত্রণে এনে সেগুলোকে সাশ্রয়ী করার পরিকল্পনার কথাও জানান।

প্রথম নির্দেশ: গৃহহীনতা দূর করতে হবে

ভাষণে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা ছিল তাঁর প্রথম সরকারি নির্দেশ। বার্নহাম বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করার পর তাঁর প্রথম নির্দেশ হবে যুক্তরাজ্যে রাস্তায় বসবাস বা রাফ স্লিপিং (rough sleeping) বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

তিনি বলেন, "সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে সঠিক মূল্যবোধ ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনাই হবে আমার প্রথম কাজ।"

আগামীকালই আসছে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা

নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, মঙ্গলবার থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকারের প্রথম পদক্ষেপ প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই তিনি ব্রিটেনের জন্য একটি ১০ বছরের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন।

বার্নহাম বলেন, "মানুষকে এখনই কিছুটা স্বস্তি দিতে চাই। তাই আগামীকাল থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কিছু পদক্ষেপ এবং সেগুলোর অর্থায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।"

কর্মসংস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য ও আবাসনে জোর

ভাষণে তিনি তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ এবং আরও বেশি কাউন্সিল হাউস নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগই কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং একই সঙ্গে দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

'আবার আশায় বিশ্বাস করুক ব্রিটেন'

ভাষণের শেষাংশে বার্নহাম জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি মানুষের কল্যাণকে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখবেন।

তিনি বলেন, "আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে কাজ করব। আপনারাও আমার সঙ্গে এগিয়ে আসুন। আমরা নতুন জাতীয় ঐক্য, অভিন্ন লক্ষ্য ও ইতিবাচকতার পরিবেশ গড়ে তুলব। এটাই হোক সেই মুহূর্ত, যখন ব্রিটেন আবার নিজের ওপর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনবে, আবার আশার আলো দেখতে শুরু করবে।"