বার্নহ্যামের প্রথম সিদ্ধান্ত, বাতিল হচ্ছে স্টারমারের ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনা

বার্নহ্যামের প্রথম সিদ্ধান্ত, বাতিল হচ্ছে স্টারমারের ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৯ জুলাই:

লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বহুল আলোচিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) প্রকল্প বাতিল করতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ওই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত সরকারি সম্পদ ও জনবল জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে নতুন নেতৃত্ব।

বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, এটি নতুন সরকারের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের অংশ। জনগণের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই বিতর্কিত এই প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

নতুন সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ। তাই জাতীয় ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে সময় ও সম্পদ ব্যয় না করে সেগুলো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে কাজে লাগানো হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

স্টারমার সরকার গত বছর ডিজিটাল আইডি বা ‘ব্রিট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে কর্মসংস্থান রোধ এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে এটি চালু হওয়ার কথা ছিল। কর্মসংস্থানের বৈধতা প্রমাণে এই পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।

প্রস্তাবিত ডিজিটাল পরিচয়পত্রে একজন ব্যক্তির নাম, জন্মতারিখ, জাতীয়তা, বসবাসের আইনগত অবস্থান এবং ছবি সংরক্ষণের কথা ছিল। স্টারমার সরকারের দাবি ছিল, এর মাধ্যমে অবৈধভাবে কাজ করা কঠিন হবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তাও জোরদার হবে।

তবে পরিকল্পনাটি শুরু থেকেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ঘোষণার পরই এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ লাখ মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন জমা পড়ে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মীরা।

প্রকল্পটি বাতিল করলে সরকারের কত অর্থ সাশ্রয় হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাজেট তদারকি সংস্থা অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৮০ কোটি পাউন্ড হতে পারে বলে ধারণা দিলেও সে হিসাব আগের সরকার গ্রহণ করেনি।

ডিজিটাল আইডি নিয়ে ব্রিটেনে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকারও জাতীয় পরিচয়পত্র চালুর জন্য আইন পাস করেছিল। কিন্তু প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০১১ সালে জোট সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তা বাতিল করে।

স্টারমারের পরিকল্পনার পক্ষে কিছু নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান অবস্থান নিলেও বিরোধী রাজনীতিকদের অনেকেই এটিকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, সরকার বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—কেউই এখন পর্যন্ত তথ্য সুরক্ষায় শতভাগ আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই এমন একটি জাতীয় তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।